১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার
আইন-আদালত

সিলেট ট্রিপল মার্ডার: বাবুলের আদালতে স্বীকারোক্তি, নতুন তথ্য নিয়ে তদন্তে পুলিশ

Reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
21 August 2026, 07:14 PM
News Image
সিলেট মহানগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারে গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া (৪০) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাবুল তিনটি হত্যার দায় স্বীকার করে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ কী? এ বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গণমাধ্যমকে অবহিত করেনি পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ বলেছে, ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ নিয়ে তদন্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন বাবুল মিয়া। তার জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেন বিচারিক হাকিম ফারহানা সুলতানা।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। এ সময় বাবুল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি প্রকাশ করেন। পরে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট সকালে মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা (নিকুঞ্জ ভিলা) থেকে সিলেট চেম্বারের সদস্য ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনার (১৫) গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়। নিহত দম্পতির এক ছেলে ও তিন মেয়ে যুক্তরাজ্যে ও যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সন্তানেরা দেশে ফিরে হত্যাকাণ্ডটি সম্পত্তির জেরে ঘটেছে অভিযোগ তুলেন। ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে এ ঘটনায় নিহত দম্পতির বড় সন্তান সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে ১৪ আগস্ট সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। ১৬ আগস্ট এ মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়।

জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বাবুলকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানোর সময় আদালত পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এখন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিবেন।’

এর আগে গত ১২ আগস্ট আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছিলেন, গৃহকর্মী তাহমিনার প্রতি ক্রোধ থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডকে ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ বলে বাবুল অনুতাপের সুরে বলছেন, ‘মেয়েটারে (তাহমিনা) মারতে গিয়েছিলাম। তারে মারছি। পরে চাচি দেখছে, চাচিরে মারছি। চাচাও আইছে। চিল্লাইছিল, চাচারেও মারছি। ঘটনাটা অ্যাক্সিডেন্ট স্যার...’।

ট্রিপল মার্ডারের পোস্টমর্টেম রিপোর্টে তিনজনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে গৃহকর্মীর শরীরে সর্বাধিক ১৭টি ছুরিকঘাত ও গলায় একটি গভীর ক্ষত ছিল। বাকি দুজনের শরীরে তিন থেকে চারটি ছুরিকাঘাতসহ গলায় কাটা ক্ষত ছিল।