খেলাধুলা
ব্যালন ডি’অর জিততে বায়ার্নের প্রচেষ্টায় কৃতজ্ঞ হ্যারি কেইন
গত মৌসুমে দারুণ ছন্দে ছিলেন হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। এতে করে আগামী অক্টোবরে লন্ডনে অনুষ্ঠেয় ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম শীর্ষ দাবিদার হিসেবে তার নাম থাকাটা মোটেও বিস্ময়ের কিছু নয়।
এবার পুরস্কার জয়ের সম্ভাব্য ফেভারিটদের একজন তিনি। তার সঙ্গে লড়াইয়ে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে, বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল এবং ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও এ বছর কেইনকে ব্যালন ডি’অর দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখানো বেশ কঠিন নয়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন কেইন। জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। নির্বাচিত হয়েছেন জার্মানির বর্ষসেরা খেলোয়াড়। শুধু তা-ই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ৬ গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করেছেন কেইন। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে করেছেন ৫ গোল এবং গত এক বছরে প্রীতি ম্যাচে করেছেন আরও ১ গোল।
থ্রি লায়ন্সের হয়ে প্রতি ৯৮ মিনিটে একটি করে গোল করেছেন কেইন। প্রতি ৯০ মিনিটে একটি গোল অথবা অ্যাসিস্ট করেছেন। অর্থাৎ ক্লাবের মতোই দেশের হয়েও তিনি সমান ভয়ংকর। বায়ার্নের সামনের সারির কর্মকর্তা ও বোর্ড সদস্যরা প্রকাশ্যে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্য, ফ্রান্স ফুটবল যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়।
বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ক্রিস্টোফ ফ্রয়েন্ড সম্প্রতি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্য সে। সে অসাধারণ একটি মৌসুম কাটিয়েছে। বায়ার্ন মিউনিখের জন্যও এর অর্থ অনেক, যখন বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড় আপনার দলে খেলছে। আমরা দেখব সামনে কী হয়, তবে শেষ পর্যন্ত এটি সবার জন্যই দারুণ একটি বিষয় হবে।’
বায়ার্নের প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা রুভেন ক্যাসপার যোগ করেন, ‘এটি শুধু হ্যারি কেইনই হতে পারে। আমরা এটি হ্যারিকে দিয়ে দিতে পারি। ৬৪ ম্যাচে ৭৩ গোল। আমরা মনে করি, এ বছর তাকে বাদ দিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আপনি যদি শুধু পরিসংখ্যানের দিকে তাকান, তাহলে অন্য কেউ হতে পারে না।’
অবশ্য, ফ্রান্স ফুটবল প্রকৃত পরিসংখ্যানের চেয়ে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে ব্যালন ডি’অর দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করেছে। তবে এবার বায়ার্ন ভিন্ন ফলের আশা করবে। ২০২০ ও ২০২১ সালে রবার্ট লেভানদভস্কিকে উপেক্ষা করা এবং পরে ব্যালন ডি’অরের বিকল্প হিসেবে প্রথমবারের মতো ‘গার্ড মুলার, স্ট্রাইকার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার চালু করা সেই সময় পুরস্কারটির বিশ্বাসযোগ্যতায় দাগ ফেলেছিল।
২০২০ সালের পুরস্কার পুরোপুরি বাতিল করার ক্ষেত্রে ফ্রান্স ফুটবলের যুক্তি ছিল, লিগ ওয়ানের মৌসুম যথাযথভাবে শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে লেভানদভস্কি যখন পুরস্কার জয়ের স্পষ্ট ফেভারিট ছিলেন, তখন সেই যুক্তি বেশ দুর্বল বলেই মনে হয়েছিল।
ক্লাবের কাছ থেকে এমন জোরালো সমর্থন পেয়ে কেইনও অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। ২০২৩ সালে টটেনহ্যাম থেকে বড় অঙ্কের চুক্তিতে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্লাব তাকে যেভাবে আগলে রেখেছে, সেটিও তিনি জানেন।
কেইন বলেন, ‘আমি এই ক্লাবের ভালোবাসা অনুভব করি। আমি জানি, তারা আমাকে কতটা মূল্যায়ন করে। শুধু আমার গোলের জন্য নয়, আমার পুরো খেলার ধরন এবং ড্রেসিংরুমে একজন মানুষ হিসেবেও আমাকে তারা মূল্যায়ন করে। আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি। আর সমর্থকদের কথাও বলতে হয়। এই কয়েক বছরে তারা যেভাবে আমাকে গ্রহণ করেছে, সেটি সত্যিই বিশেষ কিছু। আমার লক্ষ্য হলো কিছু গোল ও কিছু ট্রফি দিয়ে তাদের সেই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়া।’
ব্যালন ডি’অর জিতবেন কি না, সেটি যা-ই হোক, বায়ার্নে ইতিমধ্যে যা অর্জন করেছেন তা নিয়ে গর্বিত কেইন। তবে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি পাওয়ার সুযোগ তিনি অবশ্যই হাতছাড়া করতে চান না।
কেইন বলেন, ‘আমি যে মৌসুম খেলেছি, তা নিয়ে আমি খুব গর্বিত। ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যালন ডি’অর হলো আপনি যে সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেতে পারেন। ব্যালন ডি’অর আমার হাতে নেই। পারফরম্যান্সের দিক থেকে আমি যা করার ছিল, করেছি। অবশ্যই, যদি এটি ঘটে, তাহলে দারুণ হবে।’
‘শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনও ২-৩ মাস বাকি। এই দল এবং জাতীয় দলের হয়ে আমি যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এখন আমার জন্য বিষয়টি হলো এই মৌসুমে মনোযোগ দেওয়া। আমাদের বড় বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য রয়েছে।’