খাদ্য নাকি সাপ্লিমেন্ট: পুষ্টির সঠিক সমাধান কোনটা?
নিজস্ব প্রতিবেদক
29 August 2026, 01:25 PM
আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নানা বিজ্ঞাপনে কিংবা পরিচিত মানুষের মুখে ভিটামিন ট্যাবলেট, গামি বা প্রোটিন ড্রিঙ্কসের মতো 'সাপ্লিমেন্ট' বা সম্পূরক খাবারের নাম প্রায়ই শোনা যায়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, এসব খাবার সবার জন্য দরকারি নয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়াও উচিত নয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সবার জন্য বা বিনা চিকিৎসায় এসব সাপ্লিমেন্ট সেবনের প্রয়োজন নেই।
কার জন্য সাপ্লিমেন্ট সত্যিই জরুরি?
বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ড. শ্রীধরা ভি এবং সাকরা ওয়ার্ল্ড হাসপাতালের প্রধান ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ প্রাচী চন্দ্রের মতে, খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণ না হলে বা বিশেষ কোনো শারীরিক অবস্থায় সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয়।
শারীরিক অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচার: দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, ক্যান্সার বা বেরিয়াট্রিক অস্ত্রোপচারের পর পুষ্টির শোষণে সমস্যা হলে।
গর্ভাবস্থা ও মাতৃত্বকালীন সময়ে: এই সময়ে অতিরিক্ত পুষ্টির চাহিদা মেটাতে।
বিশেষ খাদ্য অভ্যাস: ভেগান বা কিটো ডায়েটের মতো কঠোর খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি দেখা দিলে।
ওষুধের প্রভাব: যেমন ডায়াবেটিসের জন্য মেটফর্মিন সেবনকারীদের শরীরে ভিটামিন বি শোষণে সমস্যা হয়, তাদের সম্পূরক পুষ্টি প্রয়োজন হতে পারে।
খাবারই মূল ভিত্তি, পিল নয়
পুষ্টিবিদরা মনে করেন, সুষম খাদ্যই পুষ্টির মূল উৎস হওয়া উচিত। প্রক্রিয়াজাত বা ফোর্টিফাইড খাদ্য (যেমন আয়োডিন ও আয়রনযুক্ত লবণ, ভিটামিন এ ও ডি সমৃদ্ধ দুধ বা তেল) স্বাভাবিকভাবে ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে। পরিবারগতভাবে সুষম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই চিকিৎসকদের প্রধান পরামর্শ।
ট্রেন্ডি ‘গামি’ ও ‘কোলজেন ড্রিঙ্কস’: কতটুকু কার্যকর?
আজকাল ভিটামিন গামি, কোলাজেন ড্রিঙ্কস বা গ্রিন পাউডারের মতো আকর্ষণীয় পণ্য বাজারে বেশ জনপ্রিয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এগুলো আকর্ষণীয়ভাবে বাজারজাত করা হলেও সব ক্ষেত্রে এগুলো সাধারণ বড়ি বা সিরাপের চেয়ে বেশি কার্যকর এমন নয়। আসল বিষয়টি হলো বায়োঅ্যাভেলবিলিটি অর্থাৎ উপাদানটি শরীরের রক্তের সঙ্গে কতটুকু মিশছে এবং কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
চিকিৎসকদের মতে, না জেনে অতিরিক্ত ভিটামিন পিল সেবন শরীরের সুবিধার চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে। তাই কোনো প্রসাধন বা মুখরোচক খাদ্যপণ্য বিজ্ঞাপনের ওপর ভিত্তি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুষ্টি নিশ্চিত করাই শ্রেয়।