বিশেষ প্রতিবেদন
ক্যানসারের যেসব প্রাথমিক লক্ষণ আপনি প্রায়ই এড়িয়ে যান
বিশ্বজুড়ে ক্যানসারের বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, বিশেষ করে ৫০ বছরের কম বয়সি তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে।
ক্যানসারের হার বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ শতভাগ স্পষ্ট না হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার ফক্স চেজ ক্যান্সার সেন্টারের তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ক্যানসার প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক এবং অনকোলজিস্ট ড. ক্রিস্টোফার ক্যান মনে করেন, কীটনাশক এবং পিএফএএস-এর মতো পরিবেশগত প্রভাবক এতে ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, হুস্টন মেথডিস্ট হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ও গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজিস্ট ড. মনীষা সিং জানান, দূষণ, প্লাস্টিক এবং সাম্প্রতিক দশকগুলোতে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছ।
অনকোলজিতে বলা হয়ে থাকে, যত দ্রুত ক্যানসার শনাক্ত করা যাবে, চিকিৎসার সাফল্য ও সুস্থতার সম্ভাবনা তত বেশি হবে।
অনকোলজিস্টদের মতে, শরীরের এমন কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে যা মানুষ প্রায়ই অবহেলা বা ভুল করেন।
হঠাৎ ও অহেতুক ওজন কমে যাওয়া
কোনো ধরনের ডায়েট বা শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া স্বাস্থ্যের বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
ড. ক্যান জানান, এটি এক-দুই পাউন্ডের বিষয় নয়; কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে যদি কোনো কারণ ছাড়াই ১০ পাউন্ড বা তার বেশি ওজন কমে যায়, তবে তা শরীরে বড় ধরনের চাপ বা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও অবসাদ
দৈনন্দিন কাজ বা বয়স বাড়ার কারণে ক্লান্তি আসতে পারে। কিন্তু সেই ক্লান্তি যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যা আপনার কাজ, সিদ্ধান্ত বা জীবনযাত্রার মানকে ব্যাহত করে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির অনেক বিষয়ের মধ্যে ক্যানসার অন্যতম।
প্রস্রাবে পরিবর্তন
পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে রক্ত আসা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া বা প্রস্রাবের ধার কমে যাওয়া লক্ষ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়ার কারণে হলেও, কখনো কখনো তা প্রস্টেট ক্যানসারের টিউমারের কারণেও হতে পারে।
মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন ও রক্তপাত
মলে রক্ত যাওয়া কোলোরেক্টাল বা কোলন ক্যানসারের একটি প্রধান লক্ষণ। অনেক সময় তরুণেরা এটাকে পাইলস বা অর্শ মনে করে ভুল করেন। এছাড়া কালো রঙের মল হওয়া পাকস্থলী বা খাদ্যনালীতে রক্তপাতের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, পাতলা পায়খানা, পেট ফোলা বা পেটে ব্যথা অবহেলা করা ঠিক নয়।
খাবার গিলতে সমস্যা
খাদ্যনালী বা পাকস্থলীর ক্যানসারের ক্ষেত্রে খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া অন্যতম লক্ষণ। এটি কেবল ব্যথাদায়ক নয়, বরং খাবার নিচে নামতে বাধা পাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান বা দীর্ঘদিনের অ্যাসিডিটির সমস্যা এর কারণ হতে পারে।
ত্বকে নতুন তিল, আচিল বা দাগ
ত্বকে হঠাৎ কোনো নতুন তিল বা স্পট ওঠা কিংবা বিদ্যমান আঁচিল বা দাগের আকার ও রঙ পরিবর্তন হওয়া স্কিন ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে মেলানোমা স্কিন ক্যান্সার শুরুর দিকে ধরা পড়লে সহজেই নিরাময় সম্ভব, যা ফুসফুসে বা লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়লে জটিল রূপ নেয়।
রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
স্বাভাবিক গরমে বা মেনোপজের সময় ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু মাঝরাতে গা ভিজে কাপড়ে পানি চলে আসা এবং কাপড় বদলাতে বাধ্য হওয়ার মতো ঘাম হওয়া সাধারণ বিষয় নয়। এটি 'লিম্ফোমা' বা লিম্ফ নোড ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
প্রতিকার
পরিবারে কারও ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নির্ধারিত বয়সের আগেই স্ক্রিনিং শুরু করুন। ধূমপান ও ভেপিং ত্যাগ করা, অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাবার গ্রহণ ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমায়।চিকিৎসকদের পরামর্শ শরীরে কোনো পরিবর্তন অনুভব করলে তা অবহেলা করবেন না। প্রয়োজনে দ্বিতীয় কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।