সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবুধাবি আন্তর্জাতিক শিকার ও অশ্বারোহণ প্রদর্শনী-২০২৬ (এডিআইএইচইএক্স) এ নজর কেড়েছে একটি বিরল ধবধবে সাদা বাজপাখি। নিলামে পাখিটি ২১ লাখ দিরহামে বিক্রি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি, আর মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার ডলার।
পাখিটির অত্যন্ত বিরল সাদা পালক ও বিশুদ্ধ বংশধারাই এর উচ্চমূল্যের অন্যতম কারণ বলে জানানো হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, নিলামে কোনো বাজপাখির জন্য এটিই এখন পর্যন্ত দেওয়া সর্বোচ্চ মূল্য।
এই বিক্রির মাধ্যমে বাজপাখি নিলামের আগের বিশ্ব রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০২১ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ফ্যালকন ব্রিডার্স অকশনে একটি খাঁটি ছোপযুক্ত জাইরফ্যালকন ৪ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। নতুন এই বিক্রি সেই রেকর্ডকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেল।
২৯ আগস্টের পঞ্চম নিলামে একটি কারমুশা পিওর আল্ট্রা হোয়াইট বাজপাখি ১৫ লাখ দিরহামে বিক্রি হয়ে প্রদর্শনীর আগের রেকর্ড ভেঙেছিল। এর পরের দিন আরেকটি গির পিওর আল্ট্রা হোয়াইট বাজপাখির ছানা বিক্রি হয় ১১ লাখ দিরহামে।
সবশেষে ২১ লাখ দিরহামে বিক্রি হওয়া গির পিওর আল্ট্রা হোয়াইট বাজপাখিটি সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে একই প্রদর্শনীতে তিনটি বাজপাখি ১০ লাখ দিরহামের বেশি দামে বিক্রি হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে।
পাখিটিকে ‘আল্ট্রা হোয়াইট পিওর জাইর গারমুশা’ বাজপাখির ছানা হিসেবে পরিচয় করানো হয়। এর প্রায় সম্পূর্ণ সাদা পালকই ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
পাখিটির ওজন প্রায় ১ কেজি, আর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ১৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মার্ক মোগলিচ ফ্যালকন ফার্ম পাখিটি প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করে। প্রদর্শনীতে বাজপাখি নিলামের পঞ্চম পর্বে সম্পন্ন হয় রেকর্ড গড়া এই বিক্রি। বিরল প্রজাতি ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের বাজপাখির প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের শিকারি ও সংগ্রাহকদের দীর্ঘদিনের আগ্রহের বিষয়টিও এই নিলামে আবার সামনে এসেছে।
তবে ২ দশমিক ১ মিলিয়ন দিরহামের এই বিক্রিই প্রদর্শনীর একমাত্র আলোচিত ঘটনা নয়। প্রদর্শনীতে আসা এক তরুণী বাজপাখিপ্রেমী শেখা আল মনসুরিকে নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও ক্লিপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।
ভিডিওতে শেখাকে তার চাচার সঙ্গে প্রদর্শনীতে দেখা যায়। বাজপাখি ও পাখি পালনের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে সে জানায়, এই জগতের প্রতি তার আগ্রহ তৈরির পেছনে তার চাচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার আগ্রহের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বলেন, ‘আমার চাচা।’
ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, শেখার বাজপাখি পালনের প্রতি আগ্রহকে উৎসাহ দিতে তার চাচা প্রদর্শনী থেকে একটি বিরল প্রজাতির বাজপাখি কিনে দিয়েছেন।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি- ভিডিও বা সংশ্লিষ্ট তথ্যের কোথাও এমন প্রমাণ নেই যে শেখার চাচাই ১৫ লাখ দিরহামে বিক্রি হওয়া সেই রেকর্ড গড়া সাদা বাজপাখিটি কিনেছেন।
ফুটেজে মূলত শেখার বাজপাখির প্রতি ভালোবাসা এবং তার চাচার কাছ থেকে এই ঐতিহ্যবাহী শখের জগতে পরিচিত হওয়ার বিষয়টিই উঠে এসেছে। ফলে দেড় মিলিয়ন দিরহামের বাজপাখি এবং শেখার জন্য কেনা বাজপাখিকে একই পাখি হিসেবে দাবি করার সুযোগ নেই।
এই প্রদর্শনীতে প্রতিবছর শিকার, বাজপাখি পালন, অশ্বারোহণ, ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ও মরুভূমির সংস্কৃতিকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আগ্রহী মানুষকে একত্র করে।
বিশেষ করে বাজপাখি প্রদর্শনী ও নিলাম সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহ্যবাহী শিকার সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এবারের প্রদর্শনীতেও বিরল ও উচ্চমূল্যের বাজপাখিকে ঘিরে দর্শক ও ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। সূত্র: খিলজি টাইমস