১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার
ধর্ম

প্রতারণা কোনো মুমিনের চরিত্র হতে পারে না

Reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
19 September 2026, 10:37 AM
News Image
একটি সমাজ টিকে থাকে বিশ্বাসের সুতায়। সেই সুতা যখন প্রতারণা, ভেজাল বা মিথ্যার আঘাতে ছিঁড়ে যায়, তখন শুধু একজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না–ভেঙে পড়ে গোটা সমাজের নৈতিক কাঠামো। ইসলাম তাই সততা ও আমানতদারিতাকে ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়েছে। আসুন দেখি, প্রতারণার বিরুদ্ধে ইসলাম কী শেখায়।
বিশ্বাসই সমাজের ভিত্তি: পরিবার, ব্যবসা, কর্মক্ষেত্র বা রাষ্ট্র সবখানেই মানুষ একে অন্যের ওপর নির্ভর করে। এই আস্থা নষ্ট হলে সম্পর্কও ভেঙে পড়ে। আল্লাহ বলেন, যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার বিষয় সহজ করে দেন। (সুরা তালাক,

৪)। তাকওয়াই মানুষকে সততার পথে রাখে।
আমানতদারিতা: ঈমানের দাবি কারও অর্থ, দায়িত্ব বা গোপন কথা যা কিছু আমানত হিসেবে অর্পিত হয়, তা রক্ষা করা ঈমানি কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, হে মুমিনরা! আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, জেনেশুনে আমানতের সঙ্গেও নয়। (সুরা আনফাল, ২৭)

ব্যবসায় সততা: ব্যবসায় লাভ করা বৈধ, কিন্তু ঠকিয়ে লাভ করা নয়। পণ্যের ত্রুটি লুকানো, ওজনে কম দেওয়া বা নকলকে আসল বলা সবই নিন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে বলেছেন, যে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মুসলিম, ১০১)

প্রতারণার ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়: ভেজাল খাদ্য বা ওষুধ মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী বিপন্ন করতে পারে নিরাপত্তা। তাই একজন প্রতারক কখনো শুধু একজনকে নয়, অসংখ্য মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আল্লাহ বলেন, তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না। (সুরা বাকারা, ১৮৮) এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করো না। (সুরা আরাফ, ৮৫)
দায়িত্বশীলতার আমানত পরিবার: প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র যেখানেই দায়িত্ব দেওয়া হোক, তা আন্তরিকতা ও ন্যায়ের সঙ্গে পালন করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যাকে প্রজার দায়িত্ব দেন, সে যদি তাদের কল্যাণ কামনা না করে দায়িত্ব পালন করে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। (বুখারি, ৭১৫০)
আধুনিক যুগের নতুন প্রতারণা: আজ ভেজাল খাদ্য, নকল ওষুধ, ক্ষতিকর প্রসাধনী কিংবা ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের মাধ্যমে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। এমন উপার্জন বাহ্যিকভাবে লাভজনক মনে হলেও তা প্রকৃতপক্ষে জুলুম। আল্লাহ বলেন, মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যার কথা তোমাকে মুগ্ধ করে, অথচ সে সবচেয়ে কঠিন বিবাদকারী। (সুরা বাকারা, ২০৪)

তাকওয়া ও সততা: সুন্দর কথার ছলে অন্তরে প্রতারণা রাখা মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। তাকওয়া মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সংযুক্ত করে, সততা মানুষের কাছে বিশ্বস্ত করে তোলে। একজন প্রকৃত মুমিন আমানত রক্ষা করবে, প্রতিশ্রুতি পালন করবে, ব্যবসায় সত্যবাদী হবে, আর কখনো অন্যের ক্ষতি করে নিজের লাভ খুঁজবে না। প্রতারণার আধুনিক রূপ যতই জটিল হোক, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সততার শিক্ষাই আজও একমাত্র পথ। মনে রাখতে হবে, অন্যের ক্ষতি করে অর্জিত লাভ প্রকৃত লাভ নয়, প্রতারণার সম্পদ প্রকৃত সফলতা নয়।

লেখক: প্রধান শিক্ষক, ফাতিমাতুজ জাহরা (রা.) ইসলামি কিন্ডার গার্টেন, মুহাম্মাদপুর