১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার
সারাদেশ,বিশেষ প্রতিবেদন

চমেক হাসপাতালের গেটেই ভোগান্তি, জরুরি চিকিৎসায় বাধা যানজট

Reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
24 September 2026, 09:35 AM
News Image
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর জন্য প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অপ্রয়োজনীয় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় অ্যাম্বুলেন্স থেকে রোগী নামাতেই লেগে যাচ্ছে ১০ মিনিট বা তারও বেশি সময়। এমন দুর্ভোগের পাশাপাশি চমেক হাসপাতালের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব গেটসংলগ্ন সড়কেও প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতি চললেও তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের যেন দেখা নেই।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশে তিনটি ফটক রয়েছে। পশ্চিম পাশের ফটকটি সব সময় বন্ধ থাকে। মাঝের প্রধান ফটক এবং পূর্ব পাশের জরুরি বিভাগের ফটকে সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকে।

জানা গেছে, ২২০০ শয্যার চমেক হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এসব রোগীর সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজারের বেশি স্বজনের আসা-যাওয়া হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষের চাপের পাশাপাশি হাসপাতালের সামনের সড়কে যানবাহনের অব্যবস্থাপনায় তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।
আরও পড়ুন

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রবর্তক মোড় থেকে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেট ও পশ্চিমে গোলপাহাড় মোড় পর্যন্ত সড়কে বিভিন্ন সময়ে যানজট লেগে থাকে। দুই পাশে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। জরুরি বিভাগের প্রবেশপথের আশপাশে সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ফলে জরুরি রোগী বহনকারী গাড়ি দ্রুত হাসপাতালে ঢুকতে পারে না।

গত সোমবার সকালে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা, দুপুর ২টা থেকে বেলা ৩টা এবং সন্ধ্যার দিকে যানবাহনের ব্যাপক ভিড়া। এ সময় রোগী বহনকারী যানবাহনকে ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে রোগীকে নামাতে হচ্ছে।

ফটিকছড়ি থেকে রোগী নিয়ে আসা ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘একজন সংকটাপন্ন রোগীকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা শুরুর প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। অথচ হাসপাতালের প্রবেশপথেই যদি যানজটে আটকে থাকতে হয়, তাহলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। তাদের পূর্ব গেট থেকে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করতে ১০ মিনিট সময় লেগে যায়।’

পরদিন মঙ্গলবার সকালে জরুরি বিভাগের সামনে খালি গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক বিল্লাল হোসেন। এ স্থানে পার্কিং করার নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যরা দাঁড়িয়েছেন, তাই আমিও দাঁড়ালাম। এ স্থানে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অন্যায় বলেও স্বীকার করেন তিনি।

বিল্লাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের সামনের সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হলো আশপাশে প্রাইভেট হাসপাতালের গাড়ি। তাদের হাসপাতালে পার্কিং নেই, সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় যানবাহন।

চমেক হাসপাতালের চিকিৎসক ফারুক আজম দস্তগীর বলেন, ‘জরুরি বিভাগের সামনে বেশি সময় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে রোগীর গাড়ি চলাচলে সমস্যা হয়। রোগীদেরও সমস্যা হয়। এখানে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকা দরকার।’

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি যেন কোনো ধরনের বাধার মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সড়কে ট্রাফিক বিভাগ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে চমেকের সামনের সড়কটি যানজট মুক্ত রাখা যাবে।’

হাসপাতালসংলগ্ন সড়কে যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘চমেকের গেটের সঙ্গে বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালের গাড়ি পার্কিং নেই। আমরা নিয়মিত মামলাও দিই। অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে রোগীর গাড়িও ভোগান্তিতে পরে, এটা ঠিক। কিন্তু যানজটমুক্ত রাখার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করি।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চমেকের পশ্চিম গেট, প্রবর্তক মোড় থেকে প্রধান গেট, পূর্ব গেট পর্যন্ত সড়কে নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা, যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্ধারণ, জরুরি বিভাগের সামনে নো-পার্কিং কার্যকর এবং নিয়মিত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।