বিজ্ঞাপন (Ad Space)
ঢাকা ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়

অনার্স পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

Reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
16 August 2026, 01:57 PM
News Image
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছিয়ে রাখি, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। সব খরচ সরকার বহন করবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব পরিবারের শিশুদের আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বছরে একবার স্কুল ড্রেস দিতে চাই। শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।’

নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের নারী সমাজকে যেমন শিক্ষায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই, একইভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কাজও শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে আজ কিশোরগঞ্জ জেলায় ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।’

মাছের পোনা অবমুক্তের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ এখানে যে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলো, এসব মাছ যখন বড় হবে, ডিম পাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে, তখন এর উপকার কারা পাবেন? লন্ডনের মানুষ, নাকি জাপানের মানুষ? বাংলাদেশের মানুষই এর উপকার পাবে।’

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।