জাতীয়
বেড়েছে গ্যাসের চাপ, এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট
সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ
সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘বিডব্লিউ লেসমেস’ থেকে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ বেড়েছে। বর্তমানে দৈনিক ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি যুক্ত হওয়ায় দেশের গ্যাসসংকটে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করেছে বলে জানায় রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।
আরপিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ‘বিডব্লিউ লেসমেস’ থেকে লোডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর রাতের শেষ ভাগে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণমাত্রায় এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) সরবরাহ মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে যাচ্ছে ৪৬০ ও এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে যাচ্ছে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
ফলে আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজিস্টেশনগুলোর গ্যাসের দীর্ঘদিনের হাহাকার ও সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরপিজিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘নতুন জাহাজ 'বিডব্লিউ লেসমেস' থেকে ৭০ হাজার টন এলএনজি রিসিভ করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া লোডিং শেষ হওয়ার পর রাতের শেষ ভাগ থেকে গ্রিডে সরবরাহ চালু করা হয়েছে। শনিবার থেকেই গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি দৃশ্যমান হচ্ছে।’
সৌদি আরামকো থেকে এক লাখ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে আসা ‘আলহামরা’ কার্গো জাহাজ থেকে সামিট টার্মিনাল এলএনজি খালাস না করায় গত বুধবার দুপুর থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত মস-টাইপ কার্গো ‘আলহামরা’র নিরাপত্তা ও উপযোগিতা নিয়ে সামিট ও পরিচালনা সংস্থা এক্সিলারেট এনার্জির আপত্তির কারণে জটিলতা তৈরি হয়। জাহাজটি সমুদ্রে নোঙর করে থাকে।
তবে সিঙ্গাপুরের ২০২১ সালে নির্মিত ৫ বছর বয়সী আধুনিক ‘বিডব্লিউ লেসমেস’ কার্গোটি সফলভাবে সংযুক্ত করার পর এই জটিলতার অবসান ঘটে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলই নয়, সারা দেশের শিল্প উৎপাদন ও বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নার ভোগান্তি অনেকাংশে নিরসন হবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা।