খেলাধুলা
আর্চারিতে নির্বাচনী তোড়জোড়
বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভাকে ঘিরে দেশের আর্চারি অঙ্গনে নির্বাচনের হাওয়া জোরালো হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল রিজেন্সিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় আসন্ন নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন ও ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
সভায় ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান বক্তব্য দেন। বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সাইদুজ্জামান তুহিন। সভার শুরুতে ফেডারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়াতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল বলেন, সরকারি নির্দেশনা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন করা হয়েছে। এখন নির্বাচনের বিষয়ে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমান তিন মাসের সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে। সাধারণ সভা থেকে নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এমনকি আগামীকালই নির্বাচন সম্পন্ন করার আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি দেশের আর্চারির সাম্প্রতিক সাফল্যও উঠে আসে সভার আলোচনায়। কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল বাংলাদেশের আর্চারির দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০০২ সালে এফিলিয়েশন পাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে দেশের আর্চারি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও এশিয়ান প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আর্চাররা এখন পর্যন্ত ৪২টি স্বর্ণপদক অর্জন করেছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, যোগ্যতার ভিত্তিতে অলিম্পিক ও যুব অলিম্পিকে অংশগ্রহণ এবং যুব অলিম্পিকের সেমিফাইনালে পৌঁছানোকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে ৭-৮টি বিশ্ব র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্ট ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের কথাও উল্লেখ করেন ফেডারেশন সভাপতি। স্বাগতিক দেশ হিসেবেও বাংলাদেশ নিয়মিত পদক অর্জন করেছে বলে জানান তিনি।
আর্চারির এই অগ্রযাত্রায় পৃষ্ঠপোষকদের অবদানের কথাও স্মরণ করা হয় সভায়। ২০১৭ সাল থেকে যুক্ত থাকা সিটি গ্রুপ, গ্রামীণফোন, উত্তরা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং শুরু থেকেই পাশে থাকা কিউটসহ পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
সাধারণ সভায় নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ এবং দেশের আর্চারির ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায়, ফেডারেশনের পরবর্তী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।