খেলাধুলা
ঐতিহাসিক জয়ের পথে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ/অস্ট্রেলিয়া
ডারউইন টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের দ্বিতীয়ার্ধে আরও চারটি অস্ট্রেলিয়ান উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করেছে টিম টাইগার্স। এর মধ্যে দুটি উইকেট শিকার করেছেন পেসার হাসান মাহমুদ।
আজ (১৫ আগস্ট) তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিডের জবাবে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। ক্রিজে আছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত, ক্যারি অপরাজিত ১৯ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে বড় ধাক্কাটি আসে স্টিভেন স্মিথের উইকেটে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ক্যাচ তুলে দেন স্মিথ। মিরাচ দারুণ দক্ষতায় ফিরতি ক্যাচ লুফে নেন। প্রথম ইনিংসে ৭১ রান করা স্মিথের বিদায়ের সময় অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে ১০৬ রানে পিছিয়ে ছিল।
এর আগে দ্রুতই দুই ওপেনারকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের বলে জেক ওয়েদারাল্ড তৃতীয় বলেই বোল্ড হন, কোনো রান করতে পারেননি তিনি। টাইগার পেসারের গতিতে ১৭ রানে বোল্ড হন ট্রাভিস হেড। বোল্ড হওয়ার পরও হেড কৌতূহলজনকভাবে বেলটি আবার স্টাম্পে বসিয়ে দেন।
মার্নাস লাবুশানেও (৩১) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। প্রায় দেড় ঘণ্টা ক্রিজে কাটানোর পর তাইজুল ইসলামের বলে আউট হন তিনি। ৫৯ বলের ইনিংসে দুটি চার মারেন লাবুশেন। এরপর স্মিথ ও গ্রিন মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তাসকিন আহমেদের একটি বলে গ্রিনের ভেতরের কিনারা লেগ স্টাম্প ছুঁয়ে গেলেও বেল না পড়ায় বেঁচে যান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত মিরাজের বলে স্মিথের বিদায়ে আবারও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রান তোলে বাংলাদেশ। দলের লোয়ার অর্ডারকে দারুণভাবে সামলেছেন মিরাজ। ৫২.৩ ওভার ধরে লোয়ার অর্ডারের সঙ্গে ব্যাট করে তিনি করেন ৬৫ রান। ১১৭ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি পূর্ণ করেন এই অলরাউন্ডার। গ্রিনকে হুক করে ছক্কাও মারেন তিনি।
বাংলাদেশের লিড বড় হওয়ার পেছনে অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিং ব্যর্থতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। পুরো ইনিংসে পাঁচটি ক্যাচ ছেড়েছে স্বাগতিকরা। এর মধ্যে প্যাট কামিন্সের এক ওভারেই দুটি ক্যাচ মিস করে তারা। তাসকিনের বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে স্মিথ সহজ ক্যাচ ফেলেন। পরে মিরাজের কঠিন ক্যাচও নিতে পারেননি হেড।
বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। মাহমুদ ৯২ বল ব্যাট করেছেন। তাইজুল ২৩ বলে ১৭ রান করার পথে হ্যাজলউডকে ছক্কা মেরেছেন। আর তাসকিন ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ব্যাট করে অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে।
লাঞ্চের পর দ্রুত মিরাজ ও ইবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন জশ হ্যাজলউড। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি। তবে তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো বাংলাদেশের হাতেই। ৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সামনে শেষ দুই দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। আর বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক এক জয়ের দিকে।