খেলাধুলা
অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ
ঐতিহাসিক জয়
প্রতি রানেই সজোরে ধ্বনিত হচ্ছিল- ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’। গ্যালারির প্রতিটি কোণ থেকে ভেসে আসা সেই শব্দে বারবার মনে হচ্ছিল, ডারউইন নয়, এ যেন বাংলাদেশেরই কোনো ক্রিকেট-দুর্গ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে পাগলাটে এই দৃশ্য মঞ্চস্থ করে টিম টাইগার্স।
আজ (১৬ আগস্ট) ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় সেশনে প্রতিপক্ষের ৫৭ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ইতিহাসের জন্ম দেয় লাল-সবুজ দল। অস্ট্রেলিয়ান মাটিতে এটাই প্রথম টেস্ট জয় টাইগারদের, সবমিলিয়ে দ্বিতীয়। প্রথম জয়টি এসেছিল মিরপুরে, ২০১৭ সালে।
সহজ লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদ হাসান ডাক মারেন। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান বোল্ড হন জশ হ্যাজলউডের বলে। এরপর সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক ঐতিহাসিক জয়ের রাজসাক্ষী হন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটিতে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় বাংলাদেশের। সাদমান ২৫ এবং মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বলাই যায়, তুলনায় কম শক্তিশালী বলেই বাংলাদেশকে নিয়ে তেমন আগ্রহ ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। তাই তো দুই টেস্টের মাঝে কেটে গেছে ২৩টি বছর। হ্যাঁ, এতটাই সময় পরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলার আমন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। সেখানে অতিথিদের টিম টাইগার্স এমনই এক উপহার দিল, যেটা কখনোই প্রত্যাশা ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। এমনকি বাংলাদেশেরও!
ডারউইন টেস্টের অস্ট্রেলিয়া দল তাদের সেরা প্রজন্মের একটি। ‘টপ টু লোয়ার’ সাজানো সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে। সেই দলটির বিপক্ষে কেবল ভালো খেলার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ দলের। লক্ষ্যে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তার সতীর্থরা এতটাই নিখুঁত, নির্ভুল এবং সাহসী ছিলেন যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছেন।
টেস্টের প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের কীর্তি (৬/৫৫), দ্বিতীয় ইনিংসে তানজিদের অনবদ্য সেঞ্চুরি (১০১), তৃতীয় ইনিংসে মিরাজের ফাইফার (৫/৬৬); সর্বোপরি প্রত্যেকের অবদানে অবিশ্বাস্য এই সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ।